শরিফা বেগম শিউলী,রংপুর

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে আবু ইউনুস মোঃ সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে রেখে সড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর নগরের শালবন এলাকাবাসী। এ সময় জুয়েল হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাতটা ৫ মিনিট পর্যন্ত সকল বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে গোটা শালবন এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখা হয়। একই সময়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে সারিবদ্ধভাবে সড়কে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা।

অন্ধকার নিমজ্জিত প্রতিবাদে বক্তারা বলেন, ধর্মভীরু নিরীহ জুয়েলকে কোরআন অবমাননার মিথ্যা অপবাদে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেই ঘাতকরা ক্ষান্ত হয় নাই, মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হয়েছে। অথচ জুয়েল ছিলেন শান্ত ভদ্র সজ্জন ও নামাজি ব্যক্তি।

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ স্লোগান তুলে স্থানীয়রা বলেছেন, গুজব ছড়িয়ে শুধু এক জুয়েলের প্রাণনাশ করা হয়নি। জুয়েলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার স্ত্রী বিধবা হয়েছে। সন্তানরা অকালে পিতা হারিয়ে আজ বড় অসহায়। এই হত্যাকাণ্ড নির্মম, পাশবিক ও সম্পূর্ণ বেআইনি।

প্রতিবাদী এই আয়োজনে বক্তব্য রাখেন-রসিক কাউন্সিলর নুরুন্নবী ফুলু, সমাজসেবক অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট, শালবন এলাকার সাবেক কমিশনার ইকবাল শহিদুল আক্তার ফিরোজ, সমাজ উন্নয়নকর্মী আব্দুর রউফ প্রমুখ।

এতে শালবন, পূর্ব শালবন, ইন্দ্রারার মোড়, শাহীপাড়া, আরসিসিআই মোড়, মিস্ত্রীপাড়া, শিয়ালুর মোড়, খেড়বাড়ি ও বোতলা বৈশাখী ক্লাবসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার লোকেরা অংশ নেন।

এদিকে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন সমাবেশ করেছে। বুধবার বেলা ১১টায় প্রেসক্লাব চত্বরে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় শালবন এলাকার সকলের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহল্লার সকল দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে।