আসিফ জামান, ঠাকুরগাঁওঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে হাওলাদার হিমাগার লিঃ এর একশত কোটি টাকার জামানতকৃত নিজস্ব সম্পত্তি জালিয়াতি করে ভূয়া নিলামের মাধ্যমে যমুনা ব্যাংক ঠাকুরগাও শাখা কর্তৃপক্ষ আত্মসাৎ করছে এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম হাওলাদার।
বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার জগন্নাথপুরে হাওলাদার কোল্ড স্টোর চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, কোল্ড স্টোর ব্যবসা করার লক্ষ্যে ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর যমুনা ব্যাংক ঠাকুরগাঁও শাখা হতে কৃষি ভিত্তিক শিল্প ঋণের আওতায় এক হাজার ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি যার আনুমানিক মূল্য একশত কোটি টাকার মর্গেজে ১৩ শতাংশ সুদে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করি এবং সে টাকাও পেয়েছি কয়েক দফায়।কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১৩ শতাংশ সুদের পরিবর্তে বর্তমানে ১৯ শতাংশ হারে সুদ দাবি করছে। ২০১৪ সালে আলু ব্যবসায়ায় ধস নামাসহ নানা কারণে উত্তোলন করা ঋণের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করি এবং গত বছরের (২০২০ সাল) ১৫ মার্চ আরও আড়াই কোটি টাকার পে-অর্ডার পাঠাই, কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা গ্রহন করেননি বলে দাবি করেন ওই ব্যবসায়ী।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বহুবার যমুনা ব্যাংক ঠাকুরগাঁও শাখা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সুরাহা চাইলে কোন সহায়তা তো করেইনি বরং চেক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে ব্যাংকটি।২০১৪ সালে আলু ব্যবসায় চরম ক্ষতির সম্‌মুখীন হওয়ায় সাড়ে ২৪ কোটি ক্ষতিপুরণ মামলা করায় হাইকোর্ট ডিভিশন মামলাটির মর্মতা বুঝে তা স্থগিত করে।ফলে ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর জেলা দায়রা জজ আদালতে আবারও ১৩ কোটি ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকার চেক জালিয়াতি মামলা দায়ের করে শাখা ব্যবস্থাপক।
 শুধু এতেই ক্ষান্ত থাকেনি-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পত্রিকা ডাম্পিং করে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে ওই ব্যবসায়ীর সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন আব্দুস সালাম হাওলাদার।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, সাপ্তাহিক সংগ্রামী বাংলার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল লতিফ, সিনিয়র সাংবাদিক শাহিন ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফিরোজ আমিন সরকার, ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ সহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেক্ট্রিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।