দুপচাঁচিয়ায় মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের দোলা কৃষকের মুখে হাসি


মোঃ সবুজ মিয়া বগুড়া 

চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন ও দাম বেশি থাকায় বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কৃষকরা বেশ খুশি । সোনালী ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এ এলাকার কৃষকরা। আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও এই এলাকায় আর মাত্র কয়দিন পরে পুরো দমে ধান কাটা শুরু হবে বলে কৃষকরা জানান। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ১১হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮’শত হেক্টর বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। অর্জিত ১১হাজার ৫’শত হেক্টর জমিতে উফশি এবং ৩’শত হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ করা হয়েছে। প্রধান কিছু জাতে বেশি প্রাধান্য দেন এ অঞ্চলের কৃষকরা, যে গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনা-৭, ব্রি-৪৯, ৫০, রনজিৎ, স্বর্না, মামুন, কাটারী ভোগ, আতপ জাতের ধান ।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এবং কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারনত অগ্রাহয়ন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়। আশ্বিন ও কার্তিক এ দুই মাসে চাষিরা বিশেষ করে প্রান্তিক চাষিরা অভাব-অনটনের মধ্যে থাকেন। তাই আগাম জাতের ধান বাজারে আসায় চাষিরা সেই ধান আবাদের জন্য ঝুকে পড়েছেন। বর্তমানে এ জাতের বিনা-৭, ১৭, ব্রি ধান-৭১,৭৫,৪৯, ৯০। আগাম জাতের ধান বিক্রি করে চাষিরা অনেকটাই অর্থ সঙ্কট থেকে রেহাই পান ও পরবর্তী কৃষি আলু ও সরিষা চাষের সে অর্থ যোগান দেন।

উপজেলার ছাতিয়াগাড়ী এলাকায় কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে আগাম জাতের ব্রিধান-৯০ চাষ করেছি। এবার রোপা আমন ধানের ফলন ও দাম দুটোই ভালো। আগাম জাতের এ ধান চাষ করে একদিকে যেমন অসময়ে আর্থিক সঙ্কট মিটছে, অপর দিকে আলু ও সরিষা চাষের জন্য জমি উপযোগী করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজেদুল আলম বাংলাদেশ বলেন, দুপচাঁচিয়া অঞ্চলের আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং ভালো ফলন হওয়ায় আগাম জাতের ধান চাষে আগ্রহী এই অঞ্চলের কৃষকগন। মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী বলেছেন কারো এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদী না থাকে, সব জমিতেই চাষ করবেন, তাই এবার এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। রোপা আমন চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না ঘটলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

error: Content is protected !!