ঢাকা, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তানোরে মিজান-ইমরুল লড়াই ফ্যাক্টর ইমেজ

প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২১

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর পৌর নির্বাচনে মেইন ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে প্রার্থীদের ব্যক্তি ইমেজ ও সাংগঠনিক দক্ষতা। এটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয় বিষয়টি উপলব্ধির পর ভোটের মাঠে নয়ামেরুকরণ দেখা দিয়েেছে, যেখানে মেয়র মিজান অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। তানোর পৌর নির্বাচনে বিত্তশীল, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও দক্ষ নেতৃত্ব মেয়র মিজানুর রহমান মিজানকে বিএনপি থেকে (ধানের শীষ)  প্রতিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মিজানের প্রতিপক্ষ হিসেবে আওয়ামী লীগ বিত্তশীল, প্রতিষ্ঠিত, জনপ্রিয় ও তরুন নেতৃত্ব আবুল বাসার সুজনকে বঞ্চিত করে দুর্বল নেতৃত্ব ইমরুল হককে (নৌকা) প্রতিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় নৌকাডুবির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের  অধিকাংশ  নেতা ও কর্মী-সমর্থকের হৃদয়ে হচ্ছে রক্তক্ষরণ, জনমনেও দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া বইছে মুখরুচোক নানা গুন্জন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়রা বলছে, আবুল বাসার সুজনের কর্মী-সমর্থকগণ কোনো ভাবেই ইমরুলের বিজয় চাই না বরং তার পরাজয় নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগেও প্রস্ত্তুত। কারণ হিসেবে তারা বলছে, ইমরুল বিজয়ী হলে সুজনের রাজনীতিতে প্রবেশের পথ রোহিত হবে।
জানা গেছে, আগামি ১৪ ফেব্রুয়ারী রাজশাহীর তানোর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিগত ১৯৯৫ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রায় সাড়ে ২৭ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে তানোর সদরকে  (গ) শ্রেণীর পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার এবং ভোটার প্রায় সাড়ে ৩০ হাজার। এবার মেয়র পদে মোট তিন জন প্রার্থী প্রতিদন্দিতা করছেন। এরা হলেন বিএনপি থেকে মেয়র মিজানুর রহমান মিজান (ধানের শীষ), আওয়ামী লীগ থেকে ইমরুল হক (নৌকা) ও স্বতন্ত্র আব্দুল মালেক (নারিকেল গাছ) প্রতিক নিয়ে প্রতিদন্দিতা করছেন।এদিকে মেয়র মিজানুর রহমান মিজান (ধানের শীষ) প্রতিক নিয়ে এখানো প্রচার-প্রচারণা-গণসংযোগে এগিয়ে থেকে ভোটার কাছে পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন।  সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে মেয়র পদে মিজানের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের মাঠে বিজয়ী হবার দৌড়ে মেয়র মিজান অন্যদের থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। কারণ পৌরসভা সৃস্টির পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই বিএনপির হেভিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থী থাকে এবং সেই প্রার্থীকে মোকাবেলা করেই বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসছে।কিন্ত্ত এবার বিএনপিকে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে না।
অন্যদিকে রাব্বানী-মামুন মুন্ডুমালায় নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করে নৌকা ডুবিয়ে এবার তানোরে নৌকার পক্ষে মাঠে নামায় আওয়ামী লীগের ভোটের মাঠে বিভক্তি  সৃস্টি করেছে। একাংশ কোনো ভাবেই ইমরুলকে মেনে নিচ্ছে না, তারা প্রকাশ্যে বিরোধীতা না করলেও গোপণে ইমরুলের বিজয় ঠেকাতে মরিয়া।আবার এটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয় তাই ভোটারগণ প্রতিক নয় প্রার্থী দেখে ভোট প্রয়োগ করবেন। এছাড়াও ইমরুলের বাড়ি পৌরসভার সীমান্ত গ্রাম হরিদেবপুর আর মিজানের বাড়ি মধ্যাঞ্চল গুবিরপাড়া গ্রামে ভোটের মাঠে এটাও বড় ফ্যাক্টর  হয়ে উঠেছে। ভোটারগণ বলছে,আওয়ামী লীগ যে উন্নয়নের বুলি উড়াচ্ছে সেটা কেউ বিশ্বাস করছে না,কারণ মুন্ডুমালা পৌরসভায় ১০ বছরে আওয়ামী লীগের মেয়র কি উন্নয়ন করেছেন সেটা সবাই জানে। এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের যে পরিবেশ ও অবস্থান বিরাজমান তাতে কেবলমাত্র দলীয় মনোনয়ন নিয়ে  নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া অনেকটা দুরুহ, কারণ এখন নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে গেলে প্রার্থীর নিজস্ব ভোট ব্যাংক, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ, বিশস্ত কর্মী বাহিনী ও আর্থিক স্বচ্ছলতা ইত্যাদি প্রয়োজন। তবে মেয়র মিজান এসব গুনের অধিকারী হলেও অন্যরা অনেকটা দুর্বল বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন  মহলের অভিমত এসব বিবেচনায় ইমরুল হক নৌকার প্রার্থী হলেও খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নাই। আবার বিভিন্ন পৌরসভনায় নৌকার প্রার্থী পরাজিত হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বা জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে এমনটি নয় বরং ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বা জনপ্রিয়তা আশাব্যন্জক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।কিন্ত্ত শুধুমাত্র দুর্বল প্রার্থীর কারণে নৌকার পরাজয় হচ্ছে। কারণ যেহেতু এটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয় সেহুতু অধিকাংশক্ষেত্রে ভোটারগণ দলীয় প্রতিককে গুরুত্ব না দিয়ে প্রার্থীর আচরণ, মানুষের সঙ্গে মেশার ক্ষমতা, উন্নয়ন মানসিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি দেখে ভোট প্রয়োগ করছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য, তানোর পৌরসভায় মেয়র হিসেবে মিজান ৫ বছর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, তিনি প্রতিদিন যদি এক জন করে মানুষের উপকার করেন তাহলে ৫ বছরে সেই সংখ্যা এক হাজার ৮২৫ জন। এদিকে মিজানের কাছে থেকে সরাসরি উপকার পাওয়া এসব মানুষ যদি মিজানের জন্য ৫টি করে ভোট নিশ্চিত করেন তাহলে সেই সংখ্যা ৯ হাজার ১২৫টি।অথচ মিজানের প্রতিপক্ষ প্রার্থী আওয়ামী লীগের ইমরুল হকের উল্লেখ করার মতো কোনো বিষয় নাই বরং আওয়ামী লীগের একাংশ কোনো ভাবেই ইমরুলকে মেনে নিতে পারছে  না, যা নির্বাচনের মাঠে তাকে অনেকটা  বে-কায়দায় ফেলেছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে এটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয় বিষয়টি উপলব্ধি হওয়ার পরে পৌরবাসী প্রতিক নয় প্রার্থীর ভালমন্দ বিবেচনা করে ভোট প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়াও ইমরুলের বাড়ী পৌরসভার সীমান্ত সংলগ্ন হরিদেবপুর গ্রামে তাই সীমান্ত নয় মধ্যাঞ্চলের প্রার্থী চাই সাধারণ ভোটারগণ বলে আলোচনা রয়েছে।
Spread the love
  • এই বিভাগের সর্বশেষ

    error: Content is protected !!