ঠাকুরগাঁওয়ে ৩টি কবরস্থান দখলের অভিযোগ

ARIFkhan 0

আসিফ জামান  ঠাকুরগাঁও :


মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব যখন দিশেহারা ঠিক সেই মহূর্তে ঠাকুরগাঁওয়ে শতবছরের কবরস্থান দখলে মাঠে নেমেছে কথিত এক নেতা ও তার পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৯ নং রায়পুর ইউনিয়নের বেংরোল সরকার পাড়া গ্রামে। 

জানা যায়, বেংরোল সরকার পাড়া গ্রামের প্রায় ৫০০’শ পরিবার কয়েকশত বছর পূর্বে থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা ৩টি গোবরস্থানে গ্রামের কেউ মারা গেলে কবর দিয়ে আসতেছিল। কিন্ত হঠাৎ করে স্থানীয় কথিত এক নেতা ও তার পরিবারের সদস্যরা যোগসাজশে ক্ষমতার বলে নিজের জমি দাবি করে ৩ টি কবরস্থান দখল করে গাছ রোপন ও হালচাষ করে দেয়। এ অবস্থায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বেংরোল গ্রামে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াছিন আলী জানান,আমার জন্মে পর থেকে দেখে আসতেছে বেংরোল কবরস্থানে কয়েক শত কবর দেওয়া হয়েছে। একটি কবরের উপর ১০ টি করে  কবর পড়েছে। আমাদের বাপ দাদার কবরস্থানটি এক কথিত আওয়ামী লীগ নেতা ও তার পরিবার সদস্যরা জোরপূর্বক দখল করে গাছ রোপণ করেছে। কেউ মারা গেলে মাটি দিতে তারা বাধাঁর সৃষ্টি করছে। এই দূর্যোগময় মুহুর্তে আমরা এলাকার সবাই প্রশাসনের কাছে সহযোগীতা চাই।

ফুটানি বাজার কবরস্থান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান,আমি দীর্ঘদিন থেকে দেখে আসতেছিলাম এখানে কবরস্থান ছিল কিন্তু কিছুদিন আগে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি দবিরুল,রবি ও ফরিদরা কবরস্থানে হালচাষ দেয়।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,এসএ ও সিএস রেকর্ড অনুযায়ী কাঁচ পুকুর ও ভূতাহারপুকুর ও ফুটানী বাজার গোরস্থানগুলোর প্রকৃত মালিক ছিলেন হরিপুরের জমিদার হরি বল্পব রায়। তিনি এই জমি গুলো কবরস্থান হিসেবে দান করে দেন।দেশ স্বাধীনের পূর্বে থেকে কাঁচ পুকুর কবরস্থান, ভূতাহার পুকুর, ফুটানিবাজার কবরস্থানে গ্রামের মানুষ মৃত্যু বরণ করলে তাদের দাফন করা হতো। 

আরো জানা যায়,কয়েকশত বছর আগে থেকে যে জমি খাস  হিসাবে স্থানীয়রা কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসতেছে। সেই জমি কি ভাবে ব্যক্তি মালিকানা হয়। এ নিয়ে এলাকায় চলছে জল্পনা আর কল্পনা। স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূয়া কাগজ করিয়ে নিতে পারেন বলে অনেকের ধারনা। আর এই জমির দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেংরোল সরকার পাড়া গ্রামে ঐ পরিবারটি ১০ ফিট দূরত্বে মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করে  আরেকটি মসজিদ স্থাপন করে এবং একটি মাদ্রাসা ভেঙ্গে দেয়। যা নজীরবিহীন ঘটনা। সরকার পাড়া গ্রামের পুরাতন মসজিদে গ্রামের সকল মানুষ নামাজ আদায় করে। আর নতুন মসজিদে নামাজ আদায় করে গুটি কয়েকজন ব্যক্তি। 

অভিযোগসূত্রে কবরস্থান দখলকারী ব্যক্তিরা হলেন,বেংরোল সরকার পাড়া গ্রামের মৃত. পজির উদ্দীনের ছেলে দবির উদ্দীন,দবির উদ্দীনের ভাই ফরিদ ইসলাম,দবিরউদ্দীনের ছেলে কথিত নেতা রবি ইসলাম,মৃত. হাজির উদ্দীনের ছেলে আবুল কাশেম,খয়রুল মাষ্টারের ছেলে অভি ইসলামসহ কতিপয় কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে শত বছরের কবরস্থান দখলের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে পরিবারটি ২টি গোবরস্থান দখল করে পুকুরে মাছ চাষ ও গাছ রোপণ করেছে। 

অভিযোগের বিষয়ে দবিরউদ্দীন বলেন,আমরা জমির যে প্রকৃত মালিক তার কাছে জমিটি ক্রয় করেছি।  আমাদের জমি আমরা দখল করেছি। এতে কারো কোন আপত্তি নেই । ৯ নং রায়পুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরল ইসলাম বলেন,কবর স্থান দখলের বিষয়ে গ্রামবাসী আমাকে বলেছে। আলোচনা করে বসা হবে। 
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,কবরস্থান জোরপূর্বক দখল এটি একটি দুঃখ জনক বিষয়। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর থানা পুলিশ ও স্থানীয় ভূমি অফিসকে তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

.

দেশেরকথা/প্রতিনিধি

Tags: