মো. রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতের মৌসুমে কুমড়ো বড়ির কদরটা একটু বেশিই। এই অঞ্চলে সুস্বাদু কুমড়ো বড়ির চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাই প্রতি বছরের ন্যায় আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমড়ো বড়ির কারিগর নারী শ্রমিকরা। কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ীরা মনে করেন আগাম কুমড়ো বড়ি তৈরির পর বিক্রি করলে তা লাভজনক ও বেশি দামে বিক্রি করা যাবে। তবে নারী শ্রমিকরা কুমড়ো বড়ির তৈরির কাজ বেশি করে থাকেন। পুরুষরা তাদের সহযোগিতা করে থাকেন মাত্র। বড়ির বাজারজাত করতে বিভিন্ন স্থানে ও হাট-বাজারে যান।

সরেজমিনে উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি কুমড়ো বড়ি তৈরি করে মাচার উপর শুকানোর জন্য রোদে দেওয়া হয়েছে। আর এ কাজ নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও করে থাকেন। কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ী গৌড় চন্দ্র বলেন, হাটবাজারে কুমড়ো বড়ির বর্তমানে খুচরা মূল্যে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে তারা আশা করছেন আর কয়েকদিন পর এর দাম আরো বেশি হবে। তারা এ কাজ চারজনে করে থাকেন। এর মধ্যে তিনজনই নারী শ্রমিক।

আত্রাই উপজেলার কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ী উজ্জল চন্দ্র বলেন, এখানকার কুমড়ো বড়ি খুব সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বিশেষকরে ঢাকায় এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তিনি আরো জানান, এটি সারা বছরজুড়ে তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু শীতকালে এর কদর বেশি হয়। কারণ, শীতের সময় রান্না করে খেতে বেশ মজা লাগে। কৈ মাছ, শিং মাছ ও শৈল মাছের সাথে রান্না করলে তরকারি খেতে মজাই আলাদা। তাদের কুমড়ো বড়ি বানানো থেকে শুরু করে সব কাজ বাড়ির মেয়ে বা নারী শ্রমিকরা করে থাকেন। কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে নারী শ্রমিকদের মজুরীও কম।

জানা যায়, গ্রামের পিছিয়ে পড়া অনেক মেয়েরা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে শ্রম দিয়ে অনেক বছর ধরে এ কুমড়ো বড়ি তৈরিকাজে নিয়োজিত রয়েছেন উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের প্রায় ৩০-৪০টি পরিবার। ওই গ্রামের নারী কারিগর লতা মহন্ত বলেন, আগে কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ী পরিবারগুলো প্রথম অবস্থায় তেমন স্বচ্ছল ছিল না। এখন অনেকেই কুমড়ো বড়ির ব্যবসা করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাছাড়া বড়ি তৈরির জন্য আগে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সন্ধ্যায় মাসকালাই ডাল ভিজিয়ে রং, তৈল শিলপাটায় বেটে বা পিসে পাকা কুমড়ো ফেঁটিয়ে বড়ি তৈরি করতেন। এই অঞ্চলের বড়ির কদর রয়েছে বলে ভারতেও এটা রপ্তানী হয়ে থাকে।