অপরূপ সৌন্দর্যের আধার বিশ্ব ঐতিহ্য সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।

সুন্দবনের একটি অন্যতম আকর্ষন করমজল।

মোহম্মদ আলি,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

অপরূপ সৌন্দর্যের আধার বিশ্ব ঐতিহ্য সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তারিত এ বন যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি অংশ রয়েছে বাংলাদেশের মধ্যে বাকি অংশ রয়েছে পাশ্ববর্তী-দেশ ভারতের মধ্যে। বাংলাদেশের অংশের মধ্যে সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশে গড়ে ওঠা এ ম্যানগ্রোভ বনের সৌন্দর্যের বর্ণনা করা সত্যিই অসম্ভব। সবুজের সমারহ এ বন দেখে যে কারো মন জুড়িয়ে যাবে। সমুদ্রের স্রোতধারা ছোট বড় শাখা নদি খাল বিচিত্র প্রাণী সহ রয়েছে ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ত ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা।

সুন্দবনের একটি অন্যতম আকর্ষন করমজল। প্রতিদিনই পর্যাটকে পরিপূর্ণ থাকে এ স্থান।বছরে সর্বাধিক সংখ্যক পর্যটক আসে এখানে। একদিনের জন্য ঘুরতে আসা পর্যাটকদের জন্য এ স্থান উপযুক্ত। মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে সামান্য কিছু দূরে অবস্থিত এ বন্দর। মোংলা থেকে ট্যুরিষ্ট বোট যোগে সামান্য কিছু ভাড়া দিয়ে সুন্দরবনের করমজল যাওয়া যায়। এখানে যেতে বন বিভাগের কোন পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয় না।

তবে করমজল প্রবেশ পথে এন্ট্রি ফি মাথা পিছু সামান্য কিছু টাকা দিতে হয়। করমজল প্রবেশ করার পর দেখতে পাওয়া যাবে অসংখ্য প্রজাতির কুমির। কারন বাংলাদেশের অন্যতম কুমির পর্যটন কেন্দ্র এটা। এছাড়াও দেখা মিলবে নানা প্রজাতির হরিন,বানর সহ নানা প্রজাতির প্রানি ও বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। করমজল এ বনের মধ্যে কাঠের তৈরী আকাবাকা পথে হেটে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য অবলোপন করা যায়।

তবে মাঝে মধ্যে এ অবলোপন বিঘ্ন ঘটানোর জন্য প্রস্তুত থাকে এখানকর নানা প্রজাতির বানর। তবে এরা এতটাও খারাপ না যে শুধু শুধু কাউকে বিরক্ত করবে। তবে কিছুটা খাবার নিয়ে গেলে আপনার কাছে যে কোন সময় চলে আসতে পারে এ বানরগুলো। পর্যাটকদের জন্য এখানে নির্মিত করা আছে অনেক উচু একটি টাওয়ার। এটা উঠে অবলোপন করা যায় অনেক দূরের গহিন বনের দৃশ্য।

তবে পৃথিবী যে সবুজে সমারহ এটার উপর না উঠলে বোঝাই যাবে না। সুন্দরবনকে বলা হয় অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল। এখানে রয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার,চিত্রা হরিন,কুমির,সাপসহ নানা প্রজাতির প্রানি।এসব প্রানি দেখতে হলে একটু গহিন বনে প্রবেশ কোরতে হয় তবে সেটা অবশ্যই বন বিভাগের পূর্বানুমতি গ্রহণ ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে।

সুন্দরবনের হিরণপয়েন্ট,দুবলারচর,কটকা, কচিখালী ইত্যাদি স্থানগুলোতে যেতে বন বিভাগের পূর্বানুমতি গ্রহণ ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ কোরতে হয়। তবে এসব স্থানে ভ্রমন কোরলেই যে কাক্ষিতো প্রানিটির দেখা মিলবে এমনটা নয়। তবে মাঝে মধ্যে মিলতেও পারে। এসব স্থানে ভ্রমন কিছুটা ব্যায় সাপেক্ষ।


লেখক:মোহম্মদ আলি,বাগেরহাট প্রতিনিধি

Tags: